আলোর কোনো ভর নেই, কিন্তু ভরবেগ থাকে কিভাবে?

আগে আমাদের জানতে হবে ,
১l ভর কী?
২l ভর কয় প্রকার ও কী কী?
৩। ভরবেগের কী?
১/ ভর হল একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য, যা বলপ্রয়োগে বস্তুতে সৃষ্ট ত্বরণ (সময় সাপেক্ষে বেগ পরিবর্তনের হার) বাধার পরিমাপক। অর্থাৎ, বাহিক বল দ্বারা কোন বস্তুর ত্বরণ সৃষ্টি করলে, মন্দন (বেগ হ্রাস) সৃষ্টি কারি বল পরিমাপ কে ভর বলে।
২/ ভর দুইদুই প্রকার। যথা- (a)স্থির ভর(Rest Mass), (b) আপেক্ষিক ভর (Relativistic Mass)
(a)/ স্থির ভর: স্থির বস্তুর সাপেক্ষে স্থির কোন পর্যবেক্ষক পরিমাপ করে ঐ বস্তুর ভর পান তাই ওই বস্তুটি স্থির ভর। এক্ষেত্রে বস্তু এবং পর্যবেক্ষক-এর মধ্যে আপেক্ষিক বেগ শূন্য। একে নিশ্চল ভর ও বলা হয়ে থাকে।
(b)/ আপেক্ষিক ভর: আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে,
যদি বস্তু অনুপাতে প্রচুর গতি এবং শক্তি সরবরাহ করা হয় তবে এর গতিবেগ আলোর গতিবেগ (c=299792458/s) এর চেয়ে কম থাকে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আলো স্থির ভর(Rest Mass) শূন্য, কিন্তু আপেক্ষিক ভর(Relativistic Mass) শূন্য নয়।
৩/ ভরবেগের কথার অর্থ ভর × বেগ। অর্থাৎ, কোনো বস্তুতে ভর এবং বেগের সমন্বয়ে যে গতির সৃষ্টি হয়, সেই গতিকে ভরবেগের বলে।
আইনস্টাইন সমীকরণ E = mc²
এর পূর্বরূপ নিম্নলিখিত,
=> E² = p²c² + m²c⁴
=> E² = p²c² + (0)²(c)⁴ [যেহেতু,rest mass=0]
=> E² = p²c² + 0
=> E² = p²c²
=> E = pc
=> গতিবেগ(p) = E/c (Proved)
এখানে, E= শক্তি,p= বস্তুর গতিবেগ,c=আলোর গতিবেগ,m=স্থির ভর।
অতএব, উল্লিখিত প্রমাণ অনুযায়ী আলোর গতিবেগ আছে। আবার আপেক্ষিক ভর(Relativistic Mass) আছে। সুতরাং, ভরবেগের সংজ্ঞা অনুসারে আলোর ভরবেগ ও আছে।

Arghyadeep Mondal

I am Student of Physics

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published.